জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে টিভি চ্যানেল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা; কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল কেন্দ্রীয় সরকার।
ভারত সরকার টেলিভিশন চ্যানেল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তিবিশেষকে সেনা অভিযান বা নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের লাইভ আপডেট সম্প্রচার বন্ধ করতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক থেকে জারি করা পরামর্শে (অ্যাডভাইজরি) বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সরাসরি কভারেজ চলমান অভিযানকে ব্যাহত করতে পারে এবং নিরাপত্তা কর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে পারে।

স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের বিপদ সম্পর্কে সচেতন করে বলা হয় “অভিযান চলাকালীন সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ শত্রুপক্ষকে সুবিধা দিতে পারে, যা আমাদের বাহিনীর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।”
অতীতের উদাহরণ টেনে বলা হয় কার্গিল যুদ্ধ, ২৬/১১ মুম্বাই হামলা ও কান্দাহার হাইজ্যাকিংয়ের সময় লাইভ রিপোর্টিং জাতীয় স্তরে খারাপ প্রভাব ফেলেছিল।

নতুন গাইডলাইনে বলা হয়েছে
১. কোনো অ্যান্টি-টেররর অভিযানের সরাসরি সম্প্রচার নিষিদ্ধ।
২. অভিযান শেষে সরকারি ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তথ্য দিতে হবে মিডিয়াকে।
৩. কেবলমাত্র মনোনীত সরকারি কর্তার বিবৃতির পরেই সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।”
৪. কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিয়ম ২০২১ অনুযায়ী, নির্দেশ অমান্য করলে চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য, এটি শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নৈতিক দায়িত্বও।
৫. জাতীয় নিরাপত্তা ও সেনাসদস্যদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মিডিয়াকে সংযম ও দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। সীমান্ত বা সংবেদনশীল অঞ্চলের বাসিন্দাদেরও ভুয়া বা অপ্রমাণিত খবর শেয়ার থেকে বিরত থাকতে হবে।
গত কয়েক মাসে ভারত-পাক সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর আগেও অপপ্রচার রোধে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে কঠোর নীতিমালা মানতে বাধ্য করা হয়েছে তবে জাতীয় স্বার্থে নিয়ম এবার আরও অনেক বেশী কঠোর ভাবে পালন করা হবে।


