পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর ভারতের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট নিন্দা বার্তা না আসায় বিরোধী দলগুলি সরব হয়েছে। তাদের দাবি, এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি, যখন দিল্লি এতটা সংযত ভূমিকা নিয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান যেন স্পষ্ট নয় এবং এতে ভুল বার্তা যেতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারত বরাবরই ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। কিন্তু এবার সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, কোনও সার্বভৌম দেশের ওপর হামলা সমর্থন করা যায় না। তিনি মনে করেন, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু পশ্চিম এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর ঢেউ ভারতের অর্থনীতি ও প্রবাসী ভারতীয়দের ওপরও পড়তে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় এক কোটির বেশি ভারতীয় কাজ করেন ও বসবাস করেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তাঁদের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ভারতের জ্বালানির বড় অংশ ওই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে অশান্তির জেরে তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বাজারে। কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কূটনীতিক সলমন খুরশিদও সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভাবমূর্তি রক্ষা করা জরুরি, তাই পরিষ্কার অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। তবে ইরানে সাম্প্রতিক হামলা বা সেখানকার শীর্ষ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। আগামী সংসদ অধিবেশনে বিরোধীরা এই ইস্যুতে সরব হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তারা সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইতে পারে মনে করা হচ্ছে।


