ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনা চললেও সেই সময়েই তিন দিনের সফরে ইসরায়েল গেলেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও নিবিড় করা। এই সফরের সময় পীযূষ গোয়েল ও ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী নির বারকাত ভারত–ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) জন্য ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’-এ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনাকে এগিয়ে নিতে দুই দেশই আশাবাদী বলে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই সফরে একটি বিজনেস ফোরাম ও সিইও ফোরামেরও আয়োজন করা হয়। ভারতের প্রায় ৬০ জন ব্যবসায়ী, নেতা মন্ত্রীর সঙ্গে ইসরায়েল গিয়েছিলেন। মোট ১০০-র বেশি প্রতিনিধি ছিলেন ভারতের বিভিন্ন বড় সংস্থা থেকে—মাহিন্দ্রা, আমুল, এশিয়ান পেইন্টস ছাড়াও প্রযুক্তি, ওষুধ, রোবোটিক্স, গাড়ি, কৃষি প্রযুক্তি, নির্মাণ ও অনলাইন বাণিজ্য সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন এই সফরে। এই দলটিকে এখনও পর্যন্ত ইসরায়েলে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সফরের সময় পীযূষ গোয়েল দেখা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিতর্কিত মন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের সঙ্গে। স্মোত্রিচের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠেছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর গোয়েল সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ভারতের দক্ষতা ও ইসরায়েলের প্রযুক্তিগত শক্তি একত্রিত করে দুই দেশের উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ দিল্লিতে স্মোত্রিচের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তিতে সই করেন, যা নিয়ে বিরোধী দলগুলি তীব্র সমালোচনা করেছিল।
এদিকে গ্লোবাল সাউথের ১২টি দেশ—যেমন বলিভিয়া, কলম্বিয়া, কিউবা, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া, নিকারাগুয়া, ওমান, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিন্স এবং দক্ষিণ আফ্রিকা , ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা করেছে।


