পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে সামরিক পদক্ষেপ এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় অর্থনীতিতেও। বুধবার মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মান নেমে গিয়ে নিম্নস্তরে পৌঁছায়। এক ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় ৯২ টাকা ১৮ পয়সা, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন।
বিদেশি মুদ্রা বাজারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা ভারতের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। শুরুতে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। পরে কিছুটা কমে তা ৮২ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তার আবহ বজায় রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তেও।
এই অবস্থায় বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী ঝুঁকি এড়াতে ভারতের শেয়ারবাজার থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন। তাদের মতে, অস্থির পরিস্থিতিতে নিরাপদ বাজারে অর্থ রাখা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। ফলে দেশীয় বাজারে বিদেশি লগ্নির পরিমাণ কমছে। শুধু একদিনেই প্রায় ৩২৯৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচও বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির ওপর। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই চাপ অব্যাহত থাকলে ডলারের বিপরীতে টাকার দর ৯৯ ছুঁতে পারে।
এদিকে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক প্রায় ৩ শতাংশ নেমে গেছে। নিফটিও প্রায় ২.৫ শতাংশ কমেছে। বাজারের এই ওঠানামা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।
পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি যতদিন চলবে, ততদিন ভারতের অর্থনীতি চাপে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে টাকার মান ও বাজারের স্থিতি ফিরতে সময় লাগবে।


