মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে দূষিত পানীয় জল পান করার ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরসভার জল সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে দূষিত জল ছড়িয়ে পড়ায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
মৃতদের মধ্যে এক ছয় মাসের শিশু এবং ছয়জন মহিলা রয়েছেন বলে জানা যায়। গত সপ্তাহে ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকার বহু বাসিন্দা হঠাৎ করে ডায়রিয়া, বমি ও পেটের যন্ত্রণায় আক্রান্ত হন। পরে জানা যায়, তারা সকলেই পুরসভার সরবরাহ করা জল পান করেছিলেন। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হওয়ায় একশোর বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। যদিও প্রশাসনের তরফে মৃতের সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে এক উচ্চপদস্থ জেলা আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ ছাড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর রাজ্য সরকারের নির্দেশে ইন্দোর পুর নিগমের জনস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইঞ্জিনিয়ার শুভম শ্রীবাস্তবকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসার শালিগ্রাম সিটোলে ও সহকারী ইঞ্জিনিয়ার যোগেশ জোশিকেও কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট হাজার পরিবারের মধ্যে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এখনও ১৬০ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ২৬ জনের অবস্থা গুরুতর এবং আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জল সরবরাহ ব্যবস্থায় গাফিলতি ও নতুন পাইপলাইন বসানোর কাজে বিলম্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই ঘটনার দায় কার ওপর পড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। জল দূষণ কাণ্ডে জবাবদিহিতা নিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়।


