মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে নলবাহিত জল পান করে একের পর এক মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিচ্ছন্নতার জন্য বারবার দেশের সেরা শহরের তকমা পাওয়া ইন্দোরে এমন ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দুটোই বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভগীরথপুরা এলাকায় দূষিত জল পান করার ফলে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার হাই কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে চারজনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছে। এই তথ্যের অমিল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এ বিষয়ে সরাসরি কোনও সংখ্যা জানাতে চাননি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে মানুষ বড় সংকটে রয়েছেন। তাই এখন সংখ্যার হিসাব নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাহায্য করাই সরকারের প্রধান কাজ। তার কথায়, একজন মানুষের মৃত্যুও সরকারের কাছে সমানভাবে বেদনাদায়ক। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে প্রশাসন মৃত্যুর হিসাব করছে, তবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়।
জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ভগীরথপুরা এলাকায় একসঙ্গে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধও রয়েছেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নলের জলে দুর্গন্ধ ছিল এবং জলের স্বাদও স্বাভাবিক ছিল না। বিষয়টি জানানো হলেও দ্রুত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুর কমিশনার দিলীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, এলাকার মূল জল সরবরাহ লাইনে একটি ফাঁটল ধরা পড়েছে। সেই লাইনের কাছেই সম্প্রতি একটি শৌচাগার তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকেই পানীয় জলে দূষণ ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর শহরের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নিয়মিত কর দেওয়ার পরও কেন এমন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হল। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।


