পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চলে। একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তেহরান থেকে বেইরুট,অস্থিরতার ছায়া সর্বত্র।ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই ঘটনার জবাব তারা দেবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি আক্রমণ চালায়, তবে তার প্রত্যুত্তর হবে আরও কঠোর। দুই পক্ষের এই অবস্থানের জেরে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।রবিবার উত্তর তেহরানের একটি হাসপাতালেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, হাসপাতালের ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভাঙা কাচ, ছড়িয়ে থাকা সরঞ্জাম এবং আতঙ্কিত মানুষের ছবি পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করছে।এদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুটে আকাশপথে হামলার খবর মিলেছে। ইজরায়েলি বাহিনী সেখানে হিজবুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় বলে জানা গেছে। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই ঘটনায় অন্তত ৩১ জনের প্রাণহানি হয়েছে।জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে নিহত হন খামেনেই। তেহরানে তার বাসভবন চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, গোটা এলাকা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মৃত্যুর খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।সূত্রের দাবি, ইজরায়েল ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ে বৈঠকে বসবেন খামেনেই। সেই তথ্য সামনে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। আশঙ্কা ছিল, বৈঠকের পর তিনি আরও সুরক্ষিত জায়গায় চলে যেতে পারেন।খামেনেইর ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানির গতিবিধিও নজরে রাখা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল। পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত যে আরও বিস্তৃত রূপ নিতে পারে, সেই আশঙ্কাই বাড়ছে।
Popular Categories


