দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি মর্মান্তিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছোট ছোট স্কুলছাত্রী, যাদের বয়স ছিল প্রায় ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।
ঘটনাটি ঘটে ‘শাজারেহ তাইয়েবা’ নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। হামলার সময় স্কুলে নিয়মিত ক্লাস চলছিল এবং শিশুরা পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিল। শনিবার সকাল প্রায় ১০টা থেকে ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কয়েক দফা বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মৃতের পাশাপাশি অন্তত ৯৫ জন আহত হয়েছেন। তবে ইন্টারনেট যোগাযোগ অনেক জায়গায় বন্ধ থাকায় এবং পরিস্থিতি অস্থির হওয়ায় সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর বিভিন্ন ভিডিও এবং স্যাটেলাইট ছবিতে স্কুল ভবনের ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে। ভাঙা ইট-পাথরের নিচে রক্তমাখা বই, স্কুলব্যাগ এবং শিশুদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্য স্থানীয় মানুষদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি একটি আইআরজিসি ব্যারাকের কাছাকাছি এলাকায় ছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, স্কুলটি কোনও সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতো না। চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল সম্পূর্ণ একটি শিক্ষাকেন্দ্র। ইরানের শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধি শিবা আমেলিরাদ জানিয়েছেন, এখানে শুধু সামরিক পরিবারের সন্তানই নয়, আশেপাশের দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশুও পড়াশোনা করত। এত বেশি শিশুর মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য বড় বড় রেফ্রিজারেটর ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। বহু পরিবার একই সঙ্গে একাধিক সন্তান হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে।
এই ঘটনার পর পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে ভুলবশত হওয়া হামলা বলে দাবি করলেও স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা ভুয়া তথ্যও ফ্যাক্টচেকিং সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে খারিজ করেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৪৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।


