পশ্চিম এশিয়ায় আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনিয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই সংঘাত কেবল সামরিক নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে ঘিরে নানা মত উঠে এসেছে। একাংশের মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বারবার বলেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও জ্বালানি উন্নয়নের জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য দীর্ঘ দিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে। ফিলিস্তিন প্রশ্ন, ইসরাইলের নিরাপত্তা, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই এই অঞ্চলে একাধিক যুদ্ধ ও সংঘাত হয়েছে। তার প্রভাব এখনও কাটেনি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও বহু বছর ধরেই তিক্ত। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের রাজনৈতিক পরিবর্তন, পরে ইসলামি বিপ্লব—সবই দুই দেশের সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সামরিক হুমকি—এই ধারাবাহিকতা চলেই এসেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘শাসন পরিবর্তন’ প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে বড় শক্তিগুলি বিভিন্ন সময়ে সরাসরি বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বক্তব্য, তাদের পদক্ষেপ নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সম্পদ ও বাণিজ্য পথ নিয়েও প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে ইরানকে কেন্দ্র করে যে কোনও সামরিক পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন দেখার। কূটনৈতিক পথে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ, যাতে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো যায়।


