সম্প্রতি ইরানের উপর আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণের ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে বাকবিদণ্ডা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এই আক্রমণের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন। অনেকের মতে, আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধের নিয়ম-কানুন লংঘন করে হামলা চালিয়েছে ইরানের উপর। শুধু তাই নয়, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান, ইতিমধ্যে ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আটকে থাকা ভারতীয়দের সুবিধার্থে হেল্পলাইন নাম্বার চালু করেছেন।অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাবে ইরানে আটকে পড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বাড়ির লোকজন। এ বিষয়ে এখন অব্দি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে স্পষ্ট কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এই অসহায় মানুষগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।বিশ্বের যেকোনও প্রান্তে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব পড়ে। তাই যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ, বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যে যুদ্ধের প্রভাব দেখা গিয়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সূচক একদিনে প্রায় ৩০০ পয়েন্ট নেমে গিয়েছে। যা ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তা জনক। এই প্রেক্ষাপটে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি–র বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ইস্যুতে কেন্দ্রের স্পষ্ট অবস্থান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা দরকার। যদিও বিজেপি নেতারা বলছেন, বিদেশনীতি একটি সংবেদনশীল বিষয় এবং তা নিয়ে দায়িত্বশীল মন্তব্য করা উচিত। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেননি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ-বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীরা যখন সরব, তখন তার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, তিনি কি ইচ্ছাকৃতভাবে চুপ রয়েছেন, নাকি পরে অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
ইরানে মার্কিন–ইসরায়েল হামলা ঘিরে দেশে তীব্র রাজনৈতিক তরজা, নেই কোন বিবৃতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
Popular Categories


