ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদ ও সহিংসতার প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও পড়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত, অন্যদিকে ইরানের পালটা কড়া অবস্থান, সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে।
এই অবস্থায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। গত কয়েক দিনে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে রবিবার সন্ধ্যা থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরাইলি মদদপুষ্ট গোষ্ঠীর হামলায় সাধারণ মানুষ, পুলিশ ও আধাসামরিক স্বেচ্ছাসেবকরা প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের সম্মান জানাতেই এই শোক পালন করা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশফিয়ান বলেন, সরকার মানুষের প্রাণ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, আলোচনা হতে পারে কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের হুমকি বিক্ষোভকারীদের আরও উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে বাড়তে থাকা মৃত্যুর ঘটনায় আমেরিকা কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে। তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দেন, আমেরিকা হামলা করলে এই অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ ইরানের বৈধ লক্ষ্য হবে। তবে তেহরান জানিয়েছে, সরাসরি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে।


