ইরানে এক ভয়াবহ হামলায় দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার ভোরে রাজধানী তেহরানে আমেরিকা ও ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ইরানের সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নিজের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করার সময়ই এই হামলা ঘটে। বিস্ফোরণে তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতনিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারি সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণ বলে দাবি করেছে। যুদ্ধের সকল প্রকার নিয়ম-কানুন অগ্রাহ্য করে ইসরাইল ও আমেরিকার এই হামলা, ‘ভীরু পদক্ষেপ’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়। খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে ইরানজুড়ে। সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে। তাদের হুঁশিয়ারি, খুব শিগগিরই ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর ও প্রতিশোধ মূলক ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ দেখা যাবে। ইতিমধ্যে ইরানের বাহিনী ইজরায়েল ও পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে খবর মিলেছে। সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়। তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার ও সৌদি আরবের কিছু এলাকায়ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুবাই ও আবু ধাবিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বহু জায়গায় বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।


