মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কথা বলে একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই মোতায়েনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বিশাল নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেন। বর্তমান এই পদক্ষেপ সেই ঘোষণারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন আচরনের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, রণতরী মোতায়েন করে ইরানকে ভয় দেখানো যাবে না। তিনি জানান, দেশ রক্ষার প্রশ্নে তেহরান কোনো আপস করবে না।
ইরান আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের ওপর যেকোনো হামলাকে তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে দেখবে এবং এর জবাব হবে ভয়াবহ। এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন হামলা এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও কড়া অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে সেটিকে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা হিসেবে ধরা হবে। তিনি সতর্ক করে জানান, নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং হিজবুল্লাহ নিরপেক্ষ থাকবে না।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কাজে ব্যবহার করতে দেবে না। এটি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পেন্টাগন জানিয়েছে, নৌবহরের পাশাপাশি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। সামরিক মহড়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সামান্য ভুল সিদ্ধান্তই বড় ধরনের যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


