ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সংঘ (পিজেএস) জানিয়েছে, গত নভেম্বর মাসে ইসরাইলের দখল করা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজায় সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা অন্তত ৫৭টি যুদ্ধলঙ্ঘন ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। সংস্থার মতে, এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে ইচ্ছাকৃত ভাবে সাংবাদিকদের কাজ বাধাগ্রস্ত করার প্রবণতা আরও বাড়ছে।
সংঘের প্রেস ফ্রিডম কমিটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব লঙ্ঘন শুধু ভয় দেখানো নয়, বরং সরাসরি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে এমনভাবে করা হয়েছে যে তাদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তুলকারেম ও গাজার দুই সাংবাদিক কাজ করার সময় গুলি ও প্লাস্টিক বুলেটে আহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাই বহু হামলার মূল ভূমিকা নিয়েছে। তারা পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর ২২টি আক্রমণ চালায়, যেমন খবর করতে বাধা দেওয়া, সাংবাদিকদের পিছু নেওয়া, লাঠি দিয়ে মারধর, পাথর ছোড়া এবং অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো।
এ ছাড়াও ১৬টি আটক করা ও কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা, ৬টি সরাসরি শারীরিক হামলা, ৪টি সাংবাদিকদের সরঞ্জাম কেড়ে নেওয়া বা ভিডিও,ছবি মুছে দেওয়ার ঘটনা ও ২টি অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানোর করার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও জব্দ করার ঘটনাও ধরা পড়েছে। আরও একটি গ্রেপ্তার, এক সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযানও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
পিজেএস-এর প্রেস ফ্রিডম কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-লাহহাম জানান, এই পরিসংখ্যান দেখায় যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে দেওয়াই ইসরায়েলের নীতি হয়ে উঠেছে। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলের ওপর যথাযথ চাপ বাড়ানো হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭০,০০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে পিজেএস জানায়। পশ্চিম তীরেও সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ আটক হয়েছেন।


