যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় থামছে না ইজরায়েলি হামলা। ফের ইজরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল অন্তত ৮ জনের। নিহতদের মধ্যে রয়েছে মাত্র চার বছরের এক শিশু। এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামলায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচ পুলিশকর্মীর। হাসপাতাল সূত্রে এই মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।উত্তর গাজার গাজা শহরের আল-রিমাল এলাকায় কায়রো স্কুলের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তাতেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছিল চার বছরের একটি শিশু। হামলার পর শিফা হাসপাতালের বাইরে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। হাসপাতালের সামনে মৃতদেহ নিয়ে জড়ো হন বহু মানুষ। সেখানেই শিশুটির দেহ সাদা কাপড়ে মুড়ে রাখা হয়েছিল।নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য আলি ওবেইস সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, তাঁর ছেলে ও নাতি একটি তাঁবুতে বসে ছিলেন। তাঁরা কারও কোনও ক্ষতি করছিলেন না। এমন সময় হঠাৎ ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। দু’জনেরই মৃত্যু হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গাজায় আদৌ কোনও যুদ্ধবিরতি নেই। হামলা চলতে থাকলে তাকে যুদ্ধবিরতি বলা যায় না।অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ পুলিশকর্মী। হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, ওই পুলিশকর্মীরা নিজেদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মৃতদের বয়স ২৩ থেকে ৫৩ বছরের মধ্যে। এই ঘটনাকে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালেও মৃতদের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।ইজরায়েলি সেনার দাবি, তারা দুটি অভিযান চালিয়েছে এবং তাতে সামরিক কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে এই দাবির সমর্থনে এখনও বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ১,৫৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক। রাষ্ট্রসংঘও এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে তৈরি গাজা শান্তি পরিকল্পনাও বর্তমানে কার্যত থমকে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে ইজরায়েলের হাতে বন্দি হাজার হাজার প্যালেস্তিনীয়কে মুক্তি এবং গাজায় আটক ৪৮ জন পণবন্দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এই সংঘাত শুরু হয়। ওই ঘটনায় ইজরায়েলে প্রায় ১,২০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২৫১ জনকে পণবন্দি করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাজায় শান্তি ফেরার কোনও স্পষ্ট ছবি দেখা যাচ্ছে না।
Popular Categories


