গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্মম ও নৃশংস যুদ্ধের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শনিবারের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৭,৮৮২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৫৯টি মৃতদেহ এসেছে এবং ২০৮ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় মোট আহতের সংখ্যা এখন ১,৩৮,০৯৫-এ পৌঁছেছে। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য জীবন, পরিবারের হাসি-কান্না আর ভেঙে পড়া স্বপ্ন। ইসরায়েলের এই আগ্রাসন গাজাকে একটি জীবন্ত নরকে পরিণত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় এখনও অনেক মানুষ আটকে আছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। এমনকি মানবিক সাহায্যের জন্য লড়াই করতে গিয়েও ফিলিস্তিনিরা প্রাণ হারাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সাহায্য সংগ্রহের চেষ্টায় ১৭ জন নিহত এবং ৫৩ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত এভাবে নিহতের সংখ্যা ৮০৫-ছড়িয়ে, আহত হয়েছেন ৫,২৫২ জনেরও বেশি। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলের লক্ষ্য শুধু হামাস নয়, বরং নিরীহ ফিলিস্তিনি জনগণকে নির্মূল করা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় আবারও হামলা শুরু করেছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৭,৩১১ জন নিহত এবং ২৬,০৫৪ জন আহত হয়েছেন। জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী বিনিময় চুক্তি ছিল, যা শান্তির একটি সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল সেই চুক্তি ভেঙে দিয়ে আবারও রক্তপাত শুরু করেছে। এর ফলে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে, এবং সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এটি বিশ্বের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যে, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এছাড়াও, গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই সবই ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েলের আগ্রাসন শুধু ফিলিস্তিনের জন্য নয়, পুরো মানবজাতির জন্য একটি কালো অধ্যায়।
ইসরায়েলের এই নৃশংসতার মূলে রয়েছে ফিলিস্তিনের ভূমিতে তাদের দীর্ঘদিনের দখলদারি এবং অবৈধ বসতি স্থাপন। এই যুদ্ধ কেবল হামাসের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিরীহ ফিলিস্তিনি জনগণের জীবন ধ্বংসের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক স্তরে সমস্ত দেশগুলির উচিত এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। গাজার এই রক্তাক্ত যুদ্ধ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই যুদ্ধ শুধু গাজার নয়, মানবতার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের একটি ঘৃণ্য অপরাধ।


