যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক হিজাব সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পরীক্ষার নীতিমালা নিয়ে। এই ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। ইতিমধ্যেই ওই কমিটির প্রথম বৈঠক ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইংরেজি বিভাগের একটি পরীক্ষার সময়ে। অভিযোগ, পরীক্ষাকক্ষে দুই জন মুসলিম ছাত্রী হিজাব পরে পরীক্ষা দিতে বসেছিলেন। সেই সময় সন্দেহের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাদের ক্লাসরুমেই হিজাব খুলতে বলেন। এই নির্দেশে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই দুই ছাত্রীকে আলাদা দুটি ঘরে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করা হয়। পরে দেখা যায়, তাদের কাছে কোনও অনিয়মের প্রমাণ নেই। এরপর তাদের আবার পরীক্ষাকক্ষে ফিরতে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় তদন্ত এগোতে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা সৈয়দ তানভীর নাসরিন। কমিটিতে আরও রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসসি-এসটি লিয়াজন সেলের প্রধান সুবর্ণ কুমার দাস, রাজ্যপালের মনোনীত ইসি সদস্য কাজী মাসুম আখতার এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল। সূত্রের খবর, আগামী ১৯ জানুয়ারি কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বসতে পারে।
তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অভিযুক্ত অধ্যাপিকাকে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী তিনি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে রয়েছেন। তার জায়গায় ইংরেজি বিভাগের দায়িত্ব সাময়িকভাবে অন্য এক অধ্যাপককে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। শিখ, খ্রিস্টান, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার রীতি তাদের মধ্যেও রয়েছে। মুসলিম সমাজের বক্তব্য, হিজাব তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আত্মসম্মানের সঙ্গে জড়িত, যা কারও নির্দেশে ত্যাগ করা সম্ভব নয়।


