গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বাস্তবে এখনও থামেনি ধ্বংসযজ্ঞ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া সংঘাত প্রায় দুই বছর ধরে চলার পর আপাতত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও ধ্বংস অব্যাহত রয়েছে। ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ রয়ে গেছে।
বর্তমানে গাজায় প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে। খাদ্যের অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং ওষুধের ঘাটতির কারণে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বহু এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু ফিলিস্তিনি ঘরে ফিরলেও ঘরবাড়ি ও পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গা বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মানুষের সামনে তুলে ধরতে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হচ্ছে ‘ফিলিস্তিন সংহতি উৎসব’। আগামী ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি দু’দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ছাড়াও বিদেশ থেকে সমাজকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষানুরাগী এবং ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ অংশ নেবেন।
আয়োজকদের মতে, এই উৎসবে গান, নাটক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে গাজার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হবে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শিল্পীরাও এতে অংশ নেবেন। সমাজকর্মী অর্থপ্রভ জানান, ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশের ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের কর্মীরা তাঁদের বার্তা পাঠাবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপক গিরি নামে এক ব্যক্তি জানান, ভারতের মতো দেশে এই ধরনের ‘ফিলিস্তিন সলিডারিটি ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ সম্ভবত প্রথম উদ্যোগ। তাঁর মতে, ফিলিস্তিন আজ শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি মানবতা, বিবেক ও বিশ্বজুড়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। আয়োজকদের আশা, এই উৎসব মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে এবং বিশ্বব্যাপী সংহতি আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।


