নির্বাচনী আবহে রাজনৈতিক জনসভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন রাজনৈতিক বক্তৃতায় আক্রমণের নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদ, ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন মহলের মানুষ।
বারুইপুরের এক নির্বাচনী সভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে এবং পড়াশোনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্দোলনের কেন্দ্র না করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। অতীতে আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মান পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বজায় রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রসমাজের মধ্যে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অনুপম দেব সরকার প্রশ্ন তোলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিই দেশবিরোধী কার্যকলাপের কেন্দ্র হয়ে থাকে, তাহলে ইসরো, ডিআরডিও বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্প সেখানে পরিচালিত হচ্ছে কেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থার র্যাঙ্কিংয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অনুদান ও ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ স্বীকৃতি না দেওয়ার ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষার স্বার্থে প্রতিবাদ জানালেই ছাত্রদের দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমনকল্যাণ লাহিড়ি বলেন, জাতীয়তাবাদের ধারণা ঐতিহাসিকভাবে পরিবর্তনশীল এবং বৌদ্ধিক স্বাধীনতা শিক্ষাঙ্গনের মূল ভিত্তি। তাঁর মতে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, মুক্ত চিন্তা ও বৌদ্ধিক সাহসের জন্যও পরিচিত।
অধ্যাপক গৌতম মাইতির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির ফলে উচ্চশিক্ষায় বেসরকারিকরণের প্রবণতা বাড়ছে এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় শিক্ষক-পড়ুয়ারা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি জানান।


