বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফার আগেই সামনে এল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্র নির্বাচনের ফলাফল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব বিভাগেই বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির দাপট স্পষ্ট হয়েছে। কলা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাম ছাত্র সংগঠনগুলির জয়জয়কার দেখা গিয়েছে। বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) কোনও বিভাগেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিসি (ICC)-তে ছাত্র প্রতিনিধি পাঠানোর উদ্দেশ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ২১ এবং ২৪ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয়। সোমবার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আগামী বুধবার বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন রয়েছে, যার মধ্যে যাদবপুর কেন্দ্রও রয়েছে। ফলে ভোটের আগে এই ফলাফল রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফলাফল অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক বিভাগে প্রায় ১৩০০ ভোটে জয়ী হয়েছে ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট ফেডারেশন (ডিএসএফ)। ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকোত্তর বিভাগেও প্রায় ১০০ ভোটের ব্যবধানে জয় ধরে রেখেছে ডিএসএফ। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দুই ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই)।
অন্যদিকে কলা বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর—দু’টি ক্ষেত্রেই নিজেদের দখল বজায় রেখেছে এসএফআই। উল্লেখযোগ্যভাবে কলা বিভাগের স্নাতকোত্তর বিভাগে প্রথমবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।
বিজ্ঞান বিভাগে জয় পেয়েছে স্বতন্ত্র ছাত্র সংগঠন উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। সব মিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির শক্ত অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরের এক নির্বাচনী সভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে এবং পড়াশোনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্দোলনের কেন্দ্র না করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। অতীতে আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মান পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বজায় রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, “যাদবপুর ভালো ছেলে মেয়েদের পড়ার জায়গা হলেও ওটা এখন দেশবিরোধী কার্যকলাপের আখড়া হয়ে গেছে। ওখানে অসভ্য বানানোর ফ্যাক্টরি খোলা হয়েছে। বাবুল সুপ্রিয় বা রাজ্যপালের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা সবাই দেখেছে”।


