কেরলে কাজ করতে গিয়ে জলঙ্গী ব্লকের একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিকের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এলাকায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনজন যুবকের মৃত্যুতে স্তব্ধ স্থানীয় মানুষ। পরিবার, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর দুঃখ আর অনিশ্চয়তা।
সর্বশেষ যে শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তাঁর নাম আসরাফুল শেখ। বয়স মাত্র ২৮ বছর। তাঁর বাড়ি জলঙ্গী থানার সাদিখান দেওয়ার অঞ্চলের নওদাপাড়া গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আসরাফুল খুব শিগগিরই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রবিবার ফেরার জন্য আগেভাগেই ট্রেনের টিকিট কাটা ছিল। স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন তিনি। বাড়ি ফেরার আনন্দে শুক্রবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সেই কথোপকথনই যে শেষ হবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। রাতের মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আসরাফুল। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবরে ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন স্ত্রী, দুই নাবালক সন্তান এবং বৃদ্ধ মা। প্রিয়জনের শেষবার মুখ দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার।


