অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে জামিয়ত উলামা-ই-হিন্দের মাহমুদ মাদানি গোষ্ঠী। সংগঠনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশ্যেই সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করছে এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে।জামিয়তের সভাপতি মৌলানা মাহমুদ মাদানি সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে বলেন, শর্মা তার সাংবিধানিক দায়িত্বের অপব্যবহার করেছেন। তিনি বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের ‘মিয়া’ বলে অবমাননাকর ভাবে উল্লেখ করেছেন, যা ওই সম্প্রদায়ের মর্যাদায় আঘাত করে।আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ জানুয়ারি এক ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় চার থেকে পাঁচ লক্ষ ‘মিয়া’ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে। এমনকি তিনি ও তার দল এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন। তাদের ওপর নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করার কথাও বলেন বলে অভিযোগ।জামিয়তের মতে, এ ধরনের বক্তব্য একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি শুধু রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নয়, বরং ঘৃণা ছড়ানোর শামিল। এতে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।সংগঠনটি আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে কোনো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি এমন বিভাজনমূলক মন্তব্য করতে না পারেন, সে জন্য স্পষ্ট ও কড়াকড়ি নির্দেশিকা জারি করা হোক। তাদের দাবি, সংবিধানের চোখে সবাই সমান, তাই কোনো সম্প্রদায়কে ছোট করে দেখা বা টার্গেট করা আইনবিরুদ্ধ।এদিকে সমাজকর্মী হর্ষ মন্দরও দিল্লিতে পুলিশের কাছে আলাদা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। ঘৃণাত্মক বক্তব্য রুখতে আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও এ ধরনের ঘটনা থামছে না বলে জামিয়ত জানিয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি বলেই মনে করছে সংগঠনটি।
Popular Categories


