কাশ্মীর নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ২৫টি বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। এই বইগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদকে গৌরবের সঙ্গে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তালিকায় রয়েছেন খ্যাতনামা লেখক ও গবেষকরা। বুকারজয়ী লেখিকা অরুন্ধতী রায়, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এজি নুরানি, অধ্যাপক সুমন্ত্র বসু, ইতিহাসবিদ সুগত বসু, ও লেখিকা আয়েশা জালাল সহ আরো অনেক খ্যাতনামা লেখক লেখিকা রয়েছেন এই তালিকায়। নিষিদ্ধ হওয়া বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘আজাদি’, ‘কাশ্মীর ইন কনফ্লিক্ট’, ‘ইন সার্চ অফ ফিউচার’, ‘দ্য কাশ্মীর ডিসপিউট’, ‘অ্যা ডিসম্যান্টেলড স্টেট’ এবং ‘কাশ্মীর অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ সাউথ এশিয়া’।
সরকারের অভিযোগ, এসব বইতে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে বিকৃত বা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তরুণ সমাজকে সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, এমনটাই দাবি করা হয়েছে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্ট, জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার নির্দেশে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখ্যসচিব চন্দ্রকর ভারতী একটি সরকারি আদেশ জারি করেন। এই আদেশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর ৯৮ নম্বর ধারার অধীনে বইগুলো বাজেয়াপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এসব বই যুব সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং দেশের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক মনোভাব তৈরি করছে। তবে সমাজের নানান প্রান্তের বেশ কিছু মুক্তমনস্ক মানুষ মনে করছেন, এই বইগুলোতে সরকার প্রচন্ডভাবে অস্বস্তিতে পড়েছে। বাক স্বাধীনতার কন্ঠ রোধ করার জন্য, বইগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।


