ভারতের সমাজে এখনও যে সকল কুপ্রথা এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বিদ্যমান, তা দেশের সংবিধানের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইঞা এক আলোচনা সভায়।বিচারপতি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার মেয়ের এক বান্ধবী দিল্লিতে ঘর খুঁজছিলেন। দক্ষিণ দিল্লির এক বাড়ির মালকিন, যিনি কিছু কর্মরত মহিলাদের হস্টেল পরিচালনা করতেন, মেয়েটিকে ঘর দেওয়ার আগে নাম জিজ্ঞাসা করেন। নাম শুনেই বোঝা গেল মেয়েটি মুসলিম, এবং মুহূর্তেই মালকিন জানিয়ে দিলেন যে ঘর দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যত্র খোঁজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।এছাড়া, ওড়িশার এক স্কুলে মিড-ডে মিল রান্না করার দায়িত্বে থাকা একজন দলিত মহিলার প্রসঙ্গে অভিভাবকরা দাবি জানান, যদি তাদের সন্তান ওই মহিলার রান্না খায়, তারা সন্তানদের স্কুল থেকে তুলে নেবেন। সাংবিধানিক নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও এমন মনোভাব সমাজে বিভাজন রক্ষা করছে।বিচারপতি ভূঁইঞা বলেন, এই দুই ঘটনা যেন আমাদের সামনে একটি দর্পণ ধরে দেখাচ্ছে যে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও আমরা এখনও সমাজে বিচ্ছিন্ন এবং সংবিধানিক নৈতিকতার থেকে অনেক দূরে। সংবিধান শুধু ন্যায় ও সমতা নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব এবং মানবিক মর্যাদা বজায় রাখারও শিক্ষা দেয়।তিনি আরও বলেন, বিচারকরা সমাজে যে প্রচলিত মনোভাব তা অনুসরণ না করে বরং সংবিধানিক নৈতিকতাকে বেশি গুরুত্ব দিন। সংবিধান যে ভ্রাতৃত্বের কথা বলে, সেটি আমাদের দৈনন্দিন আচরণে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বাড়িতে এবং সামাজিক জীবনে যে নীতিনৈতিকতা মেনে চলা হয়, তার চেয়ে সংবিধান আরও উচ্চমানের নৈতিকতা প্রত্যাশা করে।বিচারপতি যোগ করেন, যদি আমরা এই সাংবিধানিক নৈতিকতা আত্মস্থ করতে পারি, তাহলে তা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উন্নতি নয়, দেশের সার্বিক মঙ্গলেও সাহায্য করবে। সংবিধান আমাদের সমাজকে সমবেত এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ করার জন্য দিশা দেয়।
মুসলিম পরিচয়ের কারণে দিল্লিতে ভাড়া মেলেনি,উদাহরণ টেনে বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি!
Popular Categories


