পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে আবারও একটি ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজেপি পরিচালিত দুরমুঠ পঞ্চায়েত। দুই পঞ্চায়েত সদস্যের কথোপকথনের একটি অডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ওই অডিয়োর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও তা ঘিরে জেলায় বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
কয়েক দিন আগেই একই এলাকায় আরেকটি অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছিল। সেখানে এক মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানকে অফিসে ডেকে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই নতুন অডিয়ো ঘিরে ফের বিতর্ক দানা বাঁধল।
ভাইরাল হওয়া নতুন অডিয়োতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি, বিজেপির দুই সদস্য তন্ময় গিরি ও ভগবানচন্দ্র মণ্ডল ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়া এবং সেই অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি দলের স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের কথাও উঠে এসেছে বলে শোনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা রাজশেখর মণ্ডলকে পদ থেকে সরানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়েও কথা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জেলা নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রসঙ্গও নাকি আলোচনায় ছিল।
এই অডিয়ো সামনে আসতেই জেলা বিজেপির অন্দরে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সোমনাথ রায় কোন মন্তব্য করেননি। বিরোধী দলনেতা রাজশেখর মণ্ডল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না। জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব যা বলবেন, সেটাই চূড়ান্ত বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, তন্ময় গিরি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাদের ফাঁসাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ভুয়ো অডিয়ো তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় সিপিএম নেতা ঝাড়েশ্বর বেরা বলেন, দুরমুঠ পঞ্চায়েতে আর্থিক লেনদেন নিয়ে আগেও দলের ভিতরে অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল। তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বও বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এমন বিতর্কে পদ্ম শিবির যে চাপে পড়েছে, তা স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।


