কর্নাটকের বাসবকল্যাণ শহরে দুই মুসলিম স্কুলশিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ বাসবকল্যাণ থানার সামনে জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি এই সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত দুই শিক্ষক হলেন মহম্মদ আরিফ (২৫) এবং সৈয়দ ইমরান (৩১)। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে তারা হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ছয় থেকে সাতজন হামলাকারী তাদের ঘিরে ধরে প্রথমে হুমকি দেয় এবং পরে পাথর ছুড়ে আঘাত করে। এতে দু’জনেরই মাথায় চোট লাগে বলে জানা যায়।
এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ মাডোলাপ্পা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি, ধৃতরা হামলার সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকের অভিযোগ, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলার পেছনে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কাজ করেছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের সময় কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে পাথর ছোড়ে এবং কয়েকজন পুলিশকর্মীর ওপরও হামলার চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর মুখতার পটেল আহত হন বলে জানা গেছে। এরপর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ, প্রায় ৪৯ জন ব্যক্তি থানাকে ঘেরাও করার চেষ্টা করেছিলেন এবং পুলিশের কাজে বাধা দেন।
প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদার জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক বা ঘৃণাবিদ্বেষ ছড়াতে পারে এমন কোনও পোস্ট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


