বুলডোজার অভিযান ঘিরে কর্নাটক সরকারকে কড়া বার্তা দিল আদালত। রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গরিব মানুষের ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয় আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ; আইন মেনে এবং মানবিক দিক বিবেচনা না করে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। ঘটনাটি কর্নাটকের একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার। অভিযোগ, সরকারি জমি উদ্ধারের নামে হঠাৎ করে বুলডোজার চালিয়ে বহু মানুষের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দরিদ্র পরিবারগুলি। অনেকেই রাতারাতি ঘরহারা হয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এই ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আসতেই কর্নাটক সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। আদালত জানায়, উচ্ছেদের আগে বাসিন্দাদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল কি না, বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না—এই সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। আদালত আরও বলে, উন্নয়ন বা সরকারি প্রকল্পের নামে মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া মেনে চলা এবং মানবিকতা বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব। একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে বুলডোজার চালানো হলে তা ক্ষমতার অপব্যবহার বলেই ধরা হবে। আপাতত এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যেন কোনও তড়িঘড়ি উচ্ছেদ অভিযান না চালানো হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে কীভাবে সহায়তা করা হবে, সে বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর কর্নাটকের বুলডোজার রাজনীতি নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।


