কর্নাটকের একটি মন্দির প্রাঙ্গণে ইসলামিক শিক্ষা প্রচারের জন্য লিফলেট বিতরণ করা নিয়ে উঠেছিল বিতর্ক। তবে, এই ঘটনায় কর্নাটক হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এমন কাজ কোনও অপরাধ নয়, যদি না সেখানে ধর্মান্তরের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়। গত ৪ মে, জামখণ্ডির রামতীর্থ মন্দিরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নিয়ে আদালতে শুনানি হয়। সেদিন বিকেলে কয়েকজন মুসলিম ব্যক্তি মন্দিরের ভেতরে লিফলেট বিতরণ করছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত মানুষদের কাছে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বলছিলেন। এই ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে, তারপর মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত।
ঘটনার দিন, বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ একজন ব্যক্তি মন্দিরে গিয়ে দেখেন যে কিছু মুসলিম যুবক লিফলেট হাতে বিতরণ করছেন। তারা উপস্থিত হিন্দু ভক্তদের ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, যখন কয়েকজন ভক্ত তাদের কাছে জানতে চান যে তারা এমন কাজ কেন করছেন, তখন এই যুবকরা হিন্দু ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এমনকি, দুবাইতে গাড়ি আর চাকরির লোভ দেখিয়ে হিন্দুদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এর ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর ধারা ২৯৯, ৩৫১ (২) এবং ৩ (৫) এবং কর্নাটক ধর্মীয় স্বাধীনতা অধিকার সুরক্ষা আইন, ২০২২-এর ধারা ৫-এর অধীনে মামলা দায়ের হয়।

কিন্তু আদালতে এই অভিযোগ দাঁড়ায়নি। বিচারপতি ভেঙ্কটেশ নায়েক টি-এর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ শুনানির সময় বলেছেন, অভিযুক্তরা যে ধরনের কাজ করেছেন, তা আইনের চোখে অপরাধ নয়। মন্দিরের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে ইসলামের শিক্ষা প্রচার করা বা সেটা ব্যাখ্যা করা কোনও অন্যায় নয়, যদি না সেখানে ধর্মান্তরের কোনও স্পষ্ট প্রমাণ থাকে। আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে যে অভিযুক্তরা কাউকে জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেননি। তাই তিন মুসলিম ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তরা আদালতে নিজেদের পক্ষে বলেছেন, তারা শুধু আল্লাহ আর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষার কথা মানুষকে জানাচ্ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য কাউকে ধর্মান্তরিত করা ছিল না। এই যুক্তি শুনে আদালত তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে। আদালতের এই রায়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি আরও একবার সামনে এসেছে। ভারতের সংবিধানে প্রত্যেকের ধর্ম প্রচারের অধিকার রয়েছে, এবং সেই অধিকারকে সম্মান জানিয়ে এই রায় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনা নিয়ে অনেকের মধ্যে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ এটাকে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার উদাহরণ বলছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন মন্দিরের মতো জায়গায় এ ধরনের কাজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তবে আদালতের রায় স্পষ্ট—ধর্ম প্রচারে কোনও বাধা নেই, যতক্ষণ তা জোর-জবরদস্তি বা প্রলোভনের মাধ্যমে না হয়।


