কর্নাটকের হুব্বাল্লি তালুকের ইনাম বীরাপুরা গ্রামে ভিন্নজাতে বিয়েকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ বছরের এক অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর। মৃতার নাম মান্যা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ছয় থেকে সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন।
রবিবার রাতে গুরুতর জখম অবস্থায় মান্যাকে হুব্বাল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে রাতেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। এই হামলায় মান্যার স্বামী বিবেকানন্দ এবং তার বাবা-মাও গুরুতর আহত হন। বিবেকানন্দকে কিমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে মান্যার সঙ্গে একই গ্রামের দলিত যুবক বিবেকানন্দের বিয়ে হয়। এই বিয়ের তীব্র বিরোধিতা করেছিল মান্যার পরিবার। বিয়ের পর থেকেই হুমকির মুখে পড়েন দম্পতি। সেই কারণে কিছুদিন ধরে তারা এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত ৮ ডিসেম্বর তারা আবার ইনাম বীরাপুরা গ্রামে ফেরেন।
পুলিশের দাবি, বিয়ের পর মান্যার বাবা প্রকাশগৌড়া পাতিলকে থানায় ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল এবং মেয়ের দাম্পত্য জীবনে হস্তক্ষেপ না করার লিখিত আশ্বাস নেওয়া হয়। তবু অভিযোগ, চলতি মাসে তিনি একাধিকবার বিবেকানন্দের বাড়িতে যান। রবিবার রাতে প্রকাশগৌড়া ও তার দুই ছেলে ইরান্নাগৌড়া এবং অরুণগৌড়া মেয়ের সঙ্গে দেখা করার অজুহাতে বিবেকানন্দের বাড়িতে ঢোকেন বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, লোহার রড, পাইপ ও কোদাল দিয়ে মান্যা, তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় মান্যার মাথা ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত লাগে। পুলিশ ইতিমধ্যে মান্যার বাবা-সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও দু’জন অভিযুক্ত পলাতক বলে জানা গিয়েছে।


