মুর্শিদাবাদের সুতি থানার ডিহিগ্রাম গ্রামের শহিদুল ইসলামের জীবনে হঠাৎ করেই ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। যে পরিবারে দু’বেলা খাবারের জোগাড় করাই ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ, সেই শহিদুল এখন এক রাতের মধ্যে কোটিপতি হয়ে গেছেন। আর এই অবিশ্বাস্য ভাগ্যবদলের পিছনে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কেনা মাত্র ৩০ টাকার একটি লটারির টিকিট।
শহিদুল পেটের দায়ে ওড়িশায় গিয়েছিলেন শ্রমিকের কাজ করতে। দিনরাত পরিশ্রম করে যা রোজগার হতো, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন ছিল। তবুও তিনি ভাগ্যের উপর ভরসা রেখে মাঝে মধ্যে লটারির টিকিট কিনতেন, এই আশায় যে হয়তো একদিন তার জীবন বদলে যাবে। গত ২৯শে জুন তিনি হোয়াটসঅ্যাপে মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে একটি লটারির টিকিট কিনেছিলেন। সেদিন রাতে লটারি বিক্রেতার একটি ফোন কল তাকে জানিয়ে দেয় যে, তিনি জিতে গেছেন ১ কোটি টাকা!
প্রথমে শহিদুলের মনে হয়েছিল এটা বুঝি কোনও মজা বা ভুল। কিন্তু যখন বিষয়টি ভালোভাবে জানতে পারলেন এবং নিশ্চিত হলেন, তখন আর দেরি করেননি। ওড়িশার কাজ ফেলে তিনি ছুটে চলে আসেন নিজের গ্রাম ডিহিগ্রামে। এই অপ্রত্যাশিত সৌভাগ্যে শহিদুল আর তার পরিবারের আনন্দের সীমা নেই। তিনি বলেন, “আমার বাবা অনেক দিন ধরে অসুস্থ। এই টাকা দিয়ে আগে তাঁর ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। তারপর নিজের জন্য একটা মজবুত ঘর তৈরি করব আর গ্রামে কিছু জমি কিনব।”
বহু দিন ধরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করা শহিদুলের জীবনে এই টাকা এনে দিয়েছে নতুন আলো। তিনি আশা করছেন, এবার তাঁর পরিবারে একটু শান্তি আর আরামে দিন কাটানোর সুযোগ হবে। এই গল্প শুধু শহিদুলের নয়, এমন অনেক মানুষের জন্যও একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন, যারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভাগ্যের উপর ভরসা রাখে।


