কাশ্মীরে সাংবাদিকদের উপর চাপ ও নজরদারির অভিযোগ নতুন নয়। তবে ফের একবার সেই অভিযোগই সামনে এল, যখন দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবেদন লেখার পর এক সিনিয়র সাংবাদিকের বাড়িতে ঢুকে তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক জাহাঙ্গির আলির বাড়িতে বুধবার সন্ধ্যায় আচমকা হাজির হন বুদগামের পুলিশকর্মীরা। কোনও রকম ওয়ারেন্ট, এফআইআর বা আদালতের নির্দেশ দেখানো ছাড়াই তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে দ্য ওয়্যার। সেখানে বলা হয়েছে, ফোন বাজেয়াপ্ত করার সময় পুলিশ কোনও কারণ জানায়নি। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে ‘হ্যাশ ভ্যালু’ রেকর্ড করার কথা—যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়, হেফাজতে থাকাকালীন ডিভাইসের ডেটা পরিবর্তন হয়নি—সেই নিয়মও মানা হয়নি।
দ্য ওয়্যার-এর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাঙ্গির আলি দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয় নিয়ে রিপোর্ট করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কিস্তওয়ারের রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ নিয়ে তাঁর লেখা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগ, সেই প্রতিবেদনের পর থেকেই তিনি প্রশাসনের নজরে ছিলেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, পুলিশ যখন তাঁর বাড়িতে হানা দেয়, ঠিক সেই সময়েই ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত আর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাজ করছিলেন জাহাঙ্গির আলি।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, কিস্তওয়ার প্রকল্পে বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ সামনে আনার পরই সাংবাদিকের ফোন বাজেয়াপ্ত হওয়া মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁর অভিযোগ, কাশ্মীরে প্রকৃত সাংবাদিকতা ক্রমেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ছে।
কাশ্মীরে সাংবাদিকদের ফোন, ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা, সংবাদমাধ্যমে তল্লাশি চালানো বা নজরদারি—এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন সংবাদমাধ্যমের একাংশ।


