কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শনিবার দলের প্রথম তফসিলি জাতি (এসসি) উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধানের মূল ভিত্তি সামাজিক ন্যায়বিচারকে দুর্বল করে দিচ্ছে। খাড়গের অভিযোগ, বিজেপির নীতির কারণে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে দলিতদের জন্য পূর্বে কংগ্রেস সরকারের সময় যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা অনেকটাই পিছিয়ে গেছে।
খাড়গে দাবি করেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ক্রমশ দুর্বল করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানকে কোনওভাবেই দুর্বল হতে দেওয়া হবে না।” তার বক্তব্যে উঠে আসে, স্বাধীনতার আগেও কংগ্রেস বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং স্বাধীনতার পর সেই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ আইন তৈরি হয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৫৫ সালের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা আইন অস্পৃশ্যতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। পরে রাজীব গান্ধীর আমলে ১৯৮৯ সালে এসসি/এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন চালু হয়, যা দলিতদের উপর অত্যাচারকে শুধু অপরাধ নয়, সামাজিক ন্যায়বিচারের উপর আঘাত হিসেবে দেখেছে। খাড়গে বলেন, দলিত সমাজের ক্ষমতায়নের প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। তিনি পোস্ট-ম্যাট্রিক ও প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ, এসসি ছাত্রদের জন্য হোস্টেল, টপ ক্লাস এডুকেশন স্কিম, আইআইটি, আইআইএম ও মেডিক্যাল কলেজে সংরক্ষণ, সর্বশিক্ষা অভিযান, মিড-ডে মিল এবং শিক্ষার অধিকার আইনের কথা উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগের ফলে দলিত ছাত্রছাত্রীর স্কুলে ভর্তির হার বেড়েছে এবং বহু এসসি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে খাড়গে বলেন, দলিতদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তিনি রোহিত ভেমুলা কাণ্ড, ভীমা-কোরেগাঁও ঘটনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দলিত ছাত্রদের প্রতি বৈষম্যের উদাহরণ দেন। তার মতে, বেসরকারিকরণের মাধ্যমে চাকরি কমে যাওয়া, সংরক্ষণ দুর্বল করা এবং এসসি/এসটি অধ্যাপক নিয়োগ কমে যাওয়া সামাজিক ন্যায়বিচারের উপর সরাসরি আঘাত।
আম্বেদকরের উক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজের অগ্রগতি বিচার হয় দুর্বলতম মানুষের নিরাপত্তা দিয়ে।


