পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে আলো জ্বলে উঠতেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল কলকাতার বহুল প্রতীক্ষিত ক্রিসমাস উদ্যাপন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করলেন কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল ২০২৫। এই উৎসব চলবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহরের চেনা উৎসবের আবহে মিশে ছিল সঙ্গীত, শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সম্প্রীতির বার্তা। মুখ্যমন্ত্রী এদিন দার্জিলিংয়ের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ সংরক্ষণ প্রকল্পেরও সূচনা করেন। পাশাপাশি, কলকাতা থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের ১৪টি চার্চে একযোগে ক্রিসমাস উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ মালা রায়, মেয়র পরিষদের সদস্য দেবাশিস কুমার, কলকাতার আর্চবিশপ ড. এলিয়াস ফ্র্যাঙ্ক, সিএনআই বিশপ পারিতোষ ক্যানিং, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চিনের কনসাল জেনারেলদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাত্রাও যোগ হয়।
সভামঞ্চ থেকে ডেরেক ও’ব্রায়েন উৎসবের সময়সূচির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘের সংখ্যালঘু অধিকার দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ আগে কলকাতা ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যালের সূচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সব ধর্মকে সমানভাবে সম্মান করে। “আমরা সব উৎসবকে নিজেদের উৎসব হিসেবে পালন করি। ছোটবেলা থেকেই আমি মিডনাইট মাসে যাই। আজও ২৪ ডিসেম্বর রাতে চার্চে যাই,” বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে জানান, সমুদ্র থেকে জঙ্গল—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দ্রুত পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে উঠে আসছে।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবের আবহ আরও উজ্জ্বল করে তোলে। গায়ক ও বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন একটি বাংলা স্তোত্র পরিবেশন করেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। শেষে মুখ্যসচিব মনোজ পান্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করেন।
আগামী কয়েক দিনে পার্ক স্ট্রিট চত্বর জুড়ে উপচে পড়বে মানুষের ঢল। আলো, সাজসজ্জা আর উৎসবের আনন্দে আবারও কলকাতা প্রমাণ করবে—এই শহর শুধু উৎসব পালন করে না, উৎসবকে আপন করে নেয়।


