স্নাতক স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়া চললেও কলকাতার বহু কলেজে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি রয়েছে। অন্যদিকে জেলার কলেজগুলিতে ভর্তির হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হওয়ায় উচ্চশিক্ষা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক তথ্য বলছে, এ বছরের ভর্তি প্রক্রিয়ায় শহরের কলেজগুলির তুলনায় মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।
রাজ্যে স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে তিন লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে আবেদন করেছেন। ৪০০-রও বেশি কলেজ এই প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। তবে ভর্তি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, কলকাতার কলেজগুলিতে প্রত্যাশিত সংখ্যক পড়ুয়া এখনও ভর্তি হননি।
তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার কলেজগুলিতে মোট প্রায় ৯৩ হাজার আসন রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেখানে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। অর্থাৎ আসনের একটি বড় অংশ এখনও ফাঁকাই রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভর্তির নিরিখে যে ১৫টি কলেজের তালিকা তৈরি হয়েছে, সেখানে কলকাতার কোনও কলেজ জায়গা করে নিতে পারেনি।
বর্তমানে ভর্তির সংখ্যার বিচারে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ। সেখানে প্রায় ২,৮০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কলেজ, যেখানে ভর্তি হয়েছে প্রায় ২,৭০০ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হাওড়ার উলুবেড়িয়া কলেজ। সেখানে ভর্তির সংখ্যা প্রায় ২,৫০০।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের মতে, কলকাতায় বহু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সরকারি ও সরকার-পোষিত কলেজগুলিতে ভর্তির চাপ আগের তুলনায় কমেছে। অনেক ছাত্রছাত্রী এখন বিভিন্ন বেসরকারি কলেজ বা বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে শহরের ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলিতেও আবেদনকারীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে জেলার ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। এক একটি কলেজের মধ্যে দূরত্ব বেশি হওয়ায় স্থানীয় ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের এলাকার কাছাকাছি কলেজেই ভর্তি হতে আগ্রহী। ফলে জেলার কলেজগুলিতে ভর্তির হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও আসন শূন্য থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৭২ হাজার অনুমোদিত আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৬ হাজার শিক্ষার্থী। ফলে বিপুল সংখ্যক আসন খালি থেকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। গত এক দশকের ভর্তি প্রবণতা বিশ্লেষণ করে কোথায় কী পরিবর্তন ঘটেছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে আগামী শিক্ষাবর্ষের আগে প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।


