আর ক’দিনের অপেক্ষা। আকাশে চাঁদ দেখা গেলেই শুরু হবে রমজানের মাস। বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদ উঠলে পরদিন থেকেই রোজা রাখবেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। এক বছরের প্রতীক্ষার পর ফিরে আসা এই মাসকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ও আবেগ স্পষ্ট কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে।
শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস, খিদিরপুর ও মেটিয়াবুরুজ-সহ নানা এলাকায় বাজারগুলোতে ভিড় বাড়ছে দিন দিন। রোজার সময় ইফতারে ফলের চাহিদা বেশি থাকে। তাই খেজুর, আপেল, আঙুর, কলা ও নানা মৌসুমি ফলে সাজানো দোকান ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। বিক্রেতাদের কথায়, ইতিমধ্যেই বিক্রি ভালো শুরু হয়েছে।
রমজানের বিশেষ খাবারের উপকরণও বাজারে এসে গেছে। লাচ্ছা ও সেমাইয়ের বিভিন্ন মান ও স্বাদের পসরা সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি জায়নামাজ, আতর, তসবিহ ও অন্যান্য ধর্মীয় সামগ্রীর দোকানেও কেনাবেচা বাড়ছে। নতুন পোশাকের চাহিদা থাকায় জামা কাপড়ের দোকানগুলিতেও জমজমাট পরিবেশ। উত্তর পঞ্চান্নগ্রাম, তোপসিয়া ও মমিনপুর এলাকায় ক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো।
এদিকে শহরের ঐতিহ্যবাহী নাখোদা মসজিদ-এ রমজান উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমী জানিয়েছেন, এশার নামাজের পর প্রতিদিন তারাবির নামাজ আদায় করা হবে। শুধু স্থানীয় মুসল্লিরাই নন, বাইরের বহু মানুষও এখানে নামাজে অংশ নিতে আসেন। সেই কারণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
উত্তর পঞ্চান্নগ্রামের ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ জানান, সুগন্ধি, লাচ্ছা, সেমাই ও নতুন জায়নামাজসহ সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার কথায়, রমজানকে স্বাগত জানাতে এলাকায় ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, যা ঈদ-উল-ফিতরের আগমনী বার্তাও বয়ে আনছে।


