গাজায় লাগাতার সংঘর্ষ আর নিরীহ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ জমছিলই। সেই ক্ষোভই এ বার প্রকাশ্যে এল কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে। শহরের একাংশের ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইজরায়েলের পণ্য আর দোকানে রাখবেন না। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বাজার ও পাইকারি গুদামে সেই নির্দেশিকা টাঙানো হয়েছে।
কলকাতার বড়বাজার, খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেল, কিছু দোকানে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, প্যাকেটজাত খাবার ও অন্যান্য আমদানিকৃত জিনিস সরিয়ে রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কথায়, “মানুষ মরছে, আমরা চুপ করে ব্যবসা করব—এটা মন সায় দিচ্ছে না। প্রতিবাদ জানানোর একটা পথ তো খুঁজতেই হবে।”
একজন ফল ব্যবসায়ী জানালেন, সিদ্ধান্তটা হুট করে নেওয়া নয়। গত কয়েক দিন ধরে সংগঠনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অনেকেই মত দিয়েছেন, সরাসরি রাস্তায় নামার বদলে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানোই বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই এই বয়কটের ডাক।
তবে সব ব্যবসায়ী একমত নন। কারও কারও মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েনে ছোট ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে পড়া ঠিক নয়। তবু যারা বয়কটের পক্ষে, তাঁদের যুক্তি স্পষ্ট—“এটা রাজনীতি নয়, মানবিকতার প্রশ্ন।”
ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ সমর্থন জানিয়ে বলছেন, “ভালো উদ্যোগ।” আবার কেউ বলছেন, “দোকানে যা পাওয়া যাবে, সেটাই তো কিনতে হবে।” তবে সামগ্রিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বাজারে চর্চা শুরু হয়েছে জোরদারভাবেই।
ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শহরের বুকে এভাবেই আন্তর্জাতিক ঘটনার অভিঘাত এসে পড়েছে দৈনন্দিন বেচাকেনার খাতায়। ব্যবসার অঙ্কের মাঝেই উঠে আসছে মানবিকতার হিসেব।


