কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলিতে পড়ুয়াদের ভর্তির সংখ্যা গত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতো কমে গেছে। সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত মোট ১৪২টি কলেজে এই প্রবণতা স্পষ্ট। কভিডের সময়ের পর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম সেমেস্টারে প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছিল। তার পরের বছর সংখ্যাটা সামান্য বাড়লেও, এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পতন শুরু হয়। ২০২৩-২৪ সালে তা নেমে আসে প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজারে। ২০২৪-২৫ সালে আরও কমে দাঁড়ায় প্রায় ৯২ হাজারে। আর চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম সেমেস্টারে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজারের কিছু বেশি পড়ুয়া। অর্থাৎ পাঁচ বছরে প্রায় ৫৬ হাজার ছাত্রছাত্রী কমে গেছে।এই পরিস্থিতি আরও ভাবাচ্ছে কারণ প্রতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় সাড়ে ছয় থেকে সাত লক্ষের মতো পড়ুয়া, যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই পাশ করে। এর সঙ্গে আইএসসি ও সিবিএসই বোর্ডের ছাত্রছাত্রীরাও রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল সংখ্যক পাশ করা পড়ুয়া কোথায় যাচ্ছে?এই বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। অনেকের মতে, বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সাধারণ ডিগ্রির পাশাপাশি চাকরির সুযোগ তৈরি করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে সেই দিকেই ঝোঁক বাড়ছে। অন্যদিকে সরকারি কলেজগুলিতে এই সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে।আবার অনেকের মতে, অর্থনৈতিক চাপও বড় কারণ। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেক পড়ুয়া এখন পড়াশোনার পাশাপাশি বা তার বদলে স্বল্পমেয়াদি কাজের দিকে ঝুঁকছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পভিত্তিক কাজ, যাকে গিগ ইকোনমি বলা হয়, সেখানে যুক্ত হচ্ছে তারা। এছাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আগের মতো শহরের নামী কলেজগুলিতে ভর্তি হওয়ার আগ্রহও কমেছে। অনেকেই এখন নিজেদের জেলার কলেজেই পড়াশোনা করতে চাইছেন।বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তারা বলছেন, সময়মতো ভর্তি, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের কারণে অভিভাবকদের আস্থা বাড়ছে। পাশাপাশি নতুন শিক্ষানীতির সঙ্গে মিল রেখে আধুনিক বিষয়, যেমন কম্পিউটার সায়েন্স, ডেটা সায়েন্স বা সাইবার নিরাপত্তার মতো কোর্স চালু হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা সেই দিকেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এমনকি ভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে পড়ার সুযোগও সেখানে রয়েছে।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, এখন ছাত্রছাত্রীরা বেশি করে চাকরিমুখী বিষয় বেছে নিচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগের অনেকেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর কোর্সে ভর্তি হচ্ছে। মেয়েদের মধ্যে নার্সিংয়ের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। তবে কলা বিভাগের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তারা কোন পথে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। যদিও কিছু শিক্ষাবিদ মনে করেন, বেসরকারি ক্ষেত্রেও আর্টসের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ধীরে ধীরে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পাঁচ বছরে ৫৬ হাজার কমলো পড়ুয়াদের সংখ্যা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪২টি কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধস
Popular Categories


