একদিকে অমিত শাহ নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে নারী সুরক্ষার উপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী তারক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। যা অস্বস্তি বাড়িয়েছে বঙ্গ বিজেপির।
শুক্রবারই ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করেছে বিজেপি। সাংবাদিক সম্মেলন করে নারী সুরক্ষা এবং নারী ক্ষমতায়নের উপর জোর দেন অমিত শাহ। ঠিক সেই সময়ই বৃদ্ধা মাকে খোরপোশ না দেওয়া এবং পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কে জড়ালেন কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তারক চট্টোপাধ্যায়। ধুবুলিয়ার দেশবন্ধু হাই স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক তারকবাবুকে ঘিরে আদালতের একটি পুরনো মামলার নথি সামনে এনে রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা বিজেপির দাবি, নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ অবস্থায় বাবার চিকিৎসার খরচ বহন করেননি এবং মৃত্যুশয্যাতেও তাঁকে দেখতে যাননি তারক চট্টোপাধ্যায়। এমনকি বাবার মৃত্যুর পর বৃদ্ধা মাকে শ্বাসরোধ করে খুনের হুমকি দেওয়া ও দীর্ঘদিন খোরপোশ না দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণের অর্থ আদায়ের আবেদন জানান মা।
প্রায় তিন বছর আগে আদালত নির্দেশ দেয়, আবেদনকারী মাকে প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ দিতে হবে বিজেপি প্রার্থীকে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আদালত রায়ে জানায়, ২০২২ সালের ৩১ মার্চ থেকে ওই অর্থ প্রদান করতে হবে। পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করে, একজন শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও নিজের মায়ের প্রতি নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব পালন করেননি তারক চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর মা চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, মামলাটি এখন আর কার্যকর নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। তারকবাবুর কথায়, “প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার দিনই মায়ের কাছে গিয়ে প্রণাম করেছি। তাঁর হাত থেকে মিষ্টি খেয়ে প্রচারে নেমেছি। মা বর্তমানে আমার সঙ্গেই থাকেন।”
বিজেপি নেতৃত্বেরও দাবি, কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক শক্তিকে আটকাতেই এই ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় ৫৩ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিল বিজেপি। সেই কারণেই বিরোধীরা অপপ্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
অন্যদিকে, আদালতের রায়ের নথি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের কটাক্ষ, নারী সুরক্ষার কথা বলা দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই যখন নিজের মাকে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।


