মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে পানীয় জল দূষণের জেরে প্রাণহানির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি শহরে সরবরাহ করা জল পান করার পর অসুস্থ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বহু মানুষকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এই ঘটনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত একটি রিপোর্ট নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কেন্দ্রের জলজীবন মিশন প্রকল্পের আওতায় ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশে সরবরাহ করা পানীয় জলের বড় অংশই নিরাপদ নয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্যে মাত্র ৬৩ শতাংশের একটু বেশি জল পান করার উপযোগী। অর্থাৎ প্রায় ৩৭ শতাংশ জলে ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে। যেখানে দেশের গড় হিসাবে পানযোগ্য জলের হার ৭৬ শতাংশ, সেখানে মধ্যপ্রদেশ অনেকটাই পিছিয়ে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার প্রায় ১৫ হাজার বাড়িতে গিয়ে পানীয় জল পরীক্ষা করা হয়। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতেই এই তথ্য সামনে এসেছে। শুধু গ্রাম নয়, শহরের অবস্থাও যে খুব ভালো নয়, তা রিপোর্টে স্পষ্ট।
সবচেয়ে ভয়াবহ ছবি ধরা পড়েছে সরকারি হাসপাতালগুলিতে। রিপোর্ট বলছে, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা জলের মাত্র ১২ শতাংশ পানযোগ্য। অর্থাৎ প্রায় ৮৮ শতাংশ হাসপাতালে ব্যবহৃত জল দূষিত। দেশের অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, স্কুলগুলিতেও সমস্যা রয়েছে। প্রায় ২৬ শতাংশ স্কুলের পানীয় জলে জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
ইন্দোর জেলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও প্রশ্ন তুলছে। যদিও জেলার প্রায় সব বাড়িতেই পানীয় জলের সংযোগ রয়েছে, তবু মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পরিবার পরিস্রুত ও নিরাপদ জল পাচ্ছে। সম্প্রতি ভগীরথপুরা এলাকায় পুরসভার জলের মূল পাইপলাইনে ফাটল ধরা পড়ে। অভিযোগ, সেই পাইপলাইনের উপরেই একটি শৌচাগার তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকেই জল দূষিত হয়েছে বলে অনুমান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁরা অনেক দিন ধরেই জলে দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন এবং বিষয়টি জানানোও হয়েছিল। তবে সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়াতেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি। ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে নানান মহলে।


