বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলার একটি গ্রামে নিজের পছন্দে বিয়ে করার ঘটনায় ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাঞ্চেওয়া গ্রামে সম্প্রতি একটি বৈঠকে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রেম করে বিয়ে করা পরিবারগুলির বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি খাতায় লেখা নিয়ম পড়ে শোনাচ্ছেন। সেখানে বলা হয়, যদি কোনও ছেলে বা মেয়ে পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করে, তাহলে তাদের পরিবারকে সমাজ থেকে একঘরে করা হবে। নাপিত, পুরোহিত বা অন্য কোনও পরিষেবা ওই পরিবার পাবে না। গ্রামের কেউ তাদের কাছ থেকে কিছু কিনতেও পারবেন না। কৃষিজমি ভাড়া দেওয়া বা নেওয়াও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি যারা ওই পরিবারকে সাহায্য করবে, তাদের বিরুদ্ধেও একই আচরণ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, ওই পরিবারগুলিকে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে ডাকা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তির কথাও বলা হয়।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছর পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করা এক দম্পতিকে ঘিরে। ওই দম্পতির অভিযোগ, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েই নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে। দুই পরিবারের সম্মতি থাকলেও গ্রামের কিছু মানুষের আচরণের কারণে তারা মানসিক চাপে রয়েছে। তাদের দাবি, চারপাশের লোকজন নানান ভাবে হেনস্থা করছে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেই সমস্যা হচ্ছে।
এই ফরমান ঘিরে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলছেন, সমাজের রীতিনীতি বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আবার অনেকে অভিযোগ তুলছেন, এটি ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে করার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
এই ঘটনাটি সামনে আসার পর জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। রতলামের জেলাশাসক জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তার কথায়, গ্রামসভার তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে এই ঘোষণা করেছেন। পুলিশ সুপারও জানিয়েছেন, এই ধরনের সামাজিক ফরমান সংবিধান বিরোধী। জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে।


