মহারাষ্ট্রে মাদ্রাসা বন্ধের দাবি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার রাজ্যের বন্দর উন্নয়ন মন্ত্রী নীতিশ রানে বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিসের কাছে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি বন্ধ করার অনুরোধ জানাবেন। তার অভিযোগ, কিছু ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র থেকে চরমপন্থার অথবা জঙ্গি তৈরি হচ্ছে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের নেতারা মন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তারা জানান , এই ধরনের মন্তব্য ইচ্ছাকৃত ভাবে করা এবং উসকানিমূলক। তার দাবি, সমাজে বিভাজন তৈরির জন্যই এমন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা আসলাম শেখ বলেন, একজন মন্ত্রীর দায়িত্বশীলভাবে কথা বলা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি এত গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়, তবে তার প্রমাণও দিতে হবে। তার মতে, দেশের স্বাধীনতার আগেও মাদ্রাসা ছিল এবং তাদের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া মাদলিস-ই-ইত্তিহাদুল মুসলিমিনের নেতা ওয়ারিশ পাঠান বলেন, মাদ্রাসা থেকে বহু শিক্ষিত ব্যক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামী উঠে এসেছেন। এ ধরনের মন্তব্য করে তাদের অবমাননা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নীতিশ রানে সংবাদমাধ্যমকে জানান, একটি ভাইরাল ভিডিওতে এক ধর্মীয় শিক্ষককে এক ছাত্রকে মারধর করতে দেখা গেছে। তার দাবি, ঘটনাটি সিন্ধুদুর্গ জেলার সাওয়ান্তওয়াড়ি এলাকার। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
নীতিশ রানে আরও বলেন, রাজ্যে মাদ্রাসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। কখনও কখনও সেখানে বেআইনি জিনিস পাওয়া যায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, ধর্মীয় শিক্ষা উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। শীঘ্রই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেবেন বলে জানিয়েছেন।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রীতি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পলকেও মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে এই একই ধরনের মন্তব্য করতে শোনা গেছে।


