মহারাষ্ট্র সরকারের এক সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইনি টানাপোড়েন শুরু হল বম্বে হাইকোর্টে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর শ্রেণি (এসইবিসি)-র জন্য নির্ধারিত ৫ শতাংশ শিক্ষা সংরক্ষণ বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন মুম্বইয়ের এক আইনজীবী।
আবেদনকারী অ্যাডভোকেট সাইয়েদ এজাজ আব্বাস নকভি, তাঁর আইনজীবী নীতিন সাটপুটের মাধ্যমে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের সামাজিক ন্যায়বিচার দফতর একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে ২০১৪ সালের জুলাই মাসের নির্দেশিকা বাতিল করে দেয়। ওই পুরনো প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতেই প্রায় ৫০টি চিহ্নিত মুসলিম উপসম্প্রদায় এসইবিসি কাঠামোর অধীনে বিশেষ অনগ্রসর শ্রেণি হিসেবে শিক্ষা ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা পেত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নতুন সিদ্ধান্তটি যথেচ্ছ এবং সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। আবেদনকারীর বক্তব্য, মুসলিম এসইবিসি সংরক্ষণ নিয়ে রাজ্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি কমিশনের কাছে কোনও নতুন অভিযোগ বা আপত্তি জমা পড়েনি। তবু হঠাৎ করে এই সংরক্ষণ বাতিল করা হয়েছে, যা সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অধিকারে আঘাত হানতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তৎকালীন কংগ্রেস-এনসিপি জোট সরকার মারাঠা সম্প্রদায়ের জন্য ১৬ শতাংশ এবং নির্দিষ্ট মুসলিম গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ সংরক্ষণ ঘোষণা করেছিল। একই বছরের নভেম্বর মাসে আদালত মারাঠা সংরক্ষণ খারিজ করলেও মুসলিমদের ৫ শতাংশ শিক্ষা সংরক্ষণ বহাল রাখে, যদিও তা সরকারি ও সরকার-পোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের সামগ্রিক সীমা অতিক্রমের অনুমতি তখনও দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে সেই অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং পরবর্তী সরকার তা স্থায়ী আইনে রূপ দেয়নি। ফলে নীতি কার্যত ঝুলে ছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেটিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পিটিশনে আরও দাবি করা হয়েছে, কোনও নতুন পরিসংখ্যান বা তথ্যভিত্তিক সমীক্ষা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ তোলা হয়েছে, রাজ্য সরকার মাদ্রাসা শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ করলেও মুসলিমদের মূলধারার আধুনিক শিক্ষায় যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করেনি।
আইনজীবী মহলের মতে, বিষয়টি সাংবিধানিক ব্যাখ্যার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় আদালতের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মামলাটি শীঘ্রই শুনানির তালিকায় আসতে পারে বলে সূত্রের খবর।


