মালদার মানিকচকের ভূতনী এলাকায় এক রাতের মধ্যে বন্যার জলে তলিয়ে গেল দুই তরতাজা প্রাণ। একটি কিশোরী ও এক যুবকের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার সকালে পশ্চিম নারায়ণপুরের মহেন্দ্রটোলা গ্রামে ঘটে প্রথম ঘটনা। ১২ বছরের হেমাঙ্গিনী মণ্ডল সঙ্গীদের সঙ্গে বন্যার জলে স্নান করতে নেমে হঠাৎ করে তলিয়ে যায় জলে। এরপর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা নৌকা ও জাল নিয়ে খোঁজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর তার নিথর দেহ উদ্ধার হয় বলে জানা যায়। হেমাঙ্গিনী স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা বিজয় মণ্ডল পেশায় একজন কৃষক। মেয়ের অকাল মৃত্যুতে গোটা পরিবার ভেঙে পড়েছে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এর আগের রাতেই ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। জুলাব্দিটোলা এলাকায় টিউশন শেষে বাড়ি ফিরছিল ২১ বছরের রোজ সেখ। বন্ধুর সঙ্গে সাইকেলে করে ফিরছিল সে এবং পথ দিয়ে তখন গঙ্গার জল প্রবল বেগে বইছিল। রাস্তা পার হওয়ার সময় সে বন্যার জলে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে জলের স্রোতে ভেসে যায় সে। স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করে দেহ উদ্ধার করে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই দুই ঘটনায় ভূতনী অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বন্যার জলে প্রতিদিনই এমন বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে। তারা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন দ্রুত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


