কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের শোভাপুর পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হজরত হাজিপাড়া গ্রামের মানুষজন প্রমাণ করলেন ‘সাম্প্রদায়িক হিংসা’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে হয়। বাংলার মাটিতে হিন্দু মুসলিমের ভাতৃত্ব মূলক মেলবন্ধন এখনো অটুট। মাত্র কয়েক মাস আগেই এই গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে মোথাবাড়ি জ্বলে উঠেছিল সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে। কালিয়াচক 3 নম্বর ব্লকের শোভাপুর পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হজরত হাজিপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ সেই আগুনকে চিরতরে বুঝিয়ে দিলেন।
৭১ বছর বয়সী লক্ষ্মী রবিদাস বাস করতেন হজরত হাজিপাড়া গ্রামে। গোটা গ্রামটিতে এই ছিল একমাত্র হিন্দু পরিবার। লক্ষী বাবু পেশাগত ভাবে বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করতেন। স্ত্রী ছাড়াও লক্ষ্মীর বাবুর পরিবারে ছিল ৫ মেয়ে ও ৩ ছেলে। পেশাগতভাবে ছেলেরা পরিযায়ী শ্রমিক, এবং ৫ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বুধবার রাতে নিজের বাড়িতে প্রাণ হারান লক্ষ্মী রবিদাস। এমন পরিস্থিতিতে মৃত বৃদ্ধের শেষকৃত্য সম্পন্ন করলো গোটা গ্রাম। গ্রামে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের মানবিকতা দেখে আবারও সত্যি প্রমাণ হয় কাজী নজরুল ইসলামের লেখা সেই বিখ্যাত কবিতাটি
‘একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান’


