মালদায় ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল বৃহস্পতিবার সকালে। আগের রাতের অশান্তি কাটতে না কাটতেই এবার পুরাতন মালদা ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকায় শুরু হল বিক্ষোভ। সকাল থেকেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর জড়ো হন স্থানীয় মানুষ। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরানো হয়, বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। একই দাবিতে আগের দিন কালিয়াচক এলাকাতেও ব্যাপক অশান্তি দেখা গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মালদহ থানার বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হয়। যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বুধবারের ঘটনার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন জায়গায় চাপা উত্তেজনা ছিল। যদিও সকালবেলা কালিয়াচকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে শুরু করে, মানুষ রাস্তায় বেরোতে শুরু করেন। তবুও অনেকে এখনও খোলাখুলি কিছু বলতে চাইছেন না। রাতের ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা থাকায় আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা বিভাগকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোথাও আবার নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হতে পারে কি না, তা নিয়ে নজর রাখা হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার বৈষ্ণবনগরে মুখ্যমন্ত্রীর একটি জনসভা রয়েছে। তার আগেই জেলার অন্য প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বুধবার কালিয়াচকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও এখনও আলোচনা চলছে। সেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে থাকা কয়েকজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাতে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আগের রাতের অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন আবার নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তা স্পষ্ট।


