রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবের মাঝে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘বাংলার যুব সাথী’। কিন্তু ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকের মুখে একই প্রশ্ন, চাকরি মিলবে কবে? কোচবিহারে এমনই এক দৃশ্য চোখে পড়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের ছাত্র শুভ্রনীল দে বর্তমানে হলদিয়া বি.সি. রয় মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে পড়ছেন। তার হয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে ক্যাম্পে হাজির হন মা। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন থাকলেও সংসারের চাপে এই ভাতার আবেদন করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই ক্যাম্পে উপস্থিত আরও এক আবেদনকারী জানান, সাধারণ স্নাতক না পড়ে নার্সিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২১ সালে বিএসসি নার্সিং পাশ করার পর থেকেই চাকরির খোঁজ শুরু। কয়েক বছর কেটে গেলেও স্থায়ী কাজ জোটেনি। সরকারি চাকরি এখনও অধরা। শেষমেশ মাসে দেড় হাজার টাকার আশায় আবেদন করেছেন ‘বাংলার যুব সাথী’তে।অনেকই জানান বাড়ির পাশেই শিল্পাঞ্চল, অথচ কাজের নিশ্চয়তা নেই। কাজের খোঁজে বছরভর অন্য রাজ্যে ঘুরতে হয়।
অনেকেই বলছেন, এই টাকায় সংসার চলে না। তবে একেবারে আয় না থাকার চেয়ে সামান্য সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ। কারও একমাত্র ছেলে ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছেন। কেউ আবার ধার করে বিভিন্ন পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করছেন, কিন্তু সাফল্য আসছে না। ৫ই ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থমন্ত্র চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে পাঁচ বছর পর্যন্ত পাবেন। রবিবার থেকে আবেদন এই শিবির শুরু হয়েছে। তবে লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে রয়েছেন মেডিক্যাল ছাত্র, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সির পড়ুয়া, স্নাতকোত্তরে প্রথম হওয়া ছাত্রছাত্রী।


