মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও পুরসভার বিদ্যুৎ দফতরের অফিসে নামাজ পড়াকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিকেলের আসরের নামাজ অফিসের ভেতরে আদায় করেন একদল মুসলিম বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে ঘিরে ডানপন্থী নেতাদের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় একটি ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছিলেন বাসিন্দারা। অভিযোগ, বারবার জানানো সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না। এরপর মালেগাঁও লোক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি লুকমান কামালের নেতৃত্বে কয়েকজন বাসিন্দা বিদ্যুৎ দফতরের অফিসে যান। তাদের দাবি, বিকেল ৩টায় ডাকা হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়।
এই সময় আসরের নামাজের সময় হয়ে যায়। উপস্থিত ব্যক্তিদের আশঙ্কা ছিল, নামাজ পড়তে বাইরে গেলে হয়তো বৈঠক বাতিল হয়ে যেতে পারে। সেই কারণে তারা অফিসের ভেতরেই নামাজ আদায় করেন। ঘটনার একটি ভিডিও ২৫ ফেব্রুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়।
বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী নিতেশ রানে বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, এটি “হিন্দু রাষ্ট্র”, এখানে এই ধরনের কাজ বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাদ্রাসা বন্ধের পুরনো দাবিও ফের তোলেন।
প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ কিরিত সোমাইয়া মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনাবিস-কে চিঠি লিখে এই ঘটনাকে “গুরুতর বিষয়” বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, সরকারি দফতরে এভাবে নামাজ পড়া নিয়মবহির্ভূত। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সাময়িক বরখাস্তের আবেদন জানান।
অন্যদিকে, বাসিন্দাদের বক্তব্য, তারা কাউকে উস্কানি দিতে চাননি। দীর্ঘ বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান চেয়ে অফিসে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতির চাপে নামাজ পড়তে বাধ্য হন বলে তাদের দাবি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি জায়গায় ধর্মীয় আচার পালনের নিয়ম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


