মতুয়াগড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সব প্রস্তুতি প্রায় হয়ে গিয়েছিল। মঞ্চ তৈরি, রাস্তা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পদযাত্রার পথ সবই ঠিকঠাক সাজানো। মুখ্যমন্ত্রী নির্ধারিত সময়েই হেলিকপ্টারে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘটে গেল বড় এক জটিলতা। হেলিকপ্টারের বিমা বা ইনস্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি উড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে হঠাৎ করেই সফরসূচি বদলে সড়কপথে মতুয়াগড়ে যেতে হয়।
সূত্রের দাবি, এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা ব্যাখ্যা দিতে পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী সামনে আসেন। তিনি জানান, যে সংস্থার ওপর হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদেরই বিমার মেয়াদ নজরে রাখার কথা। সেই সংস্থাকে ইতিমধ্যেই শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দাবি অনুযায়ী হেলিকপ্টারের বিমা করানো হয় লন্ডনের একটি সংস্থার মাধ্যমে। সময়ের ফারাক থাকায় মঙ্গলবার বিকেল ৩টার আগে বিমা নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই হেলিকপ্টার উড়ানো যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়া, পরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, চুক্তি অনুযায়ী ওই সংস্থারই দায়িত্ব ছিল প্রয়োজনে বিকল্প হেলিকপ্টার সরবরাহ করা। রাজ্য সরকার এই শর্তেই বরাত দিয়েছিল। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থাও না থাকায় কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, সে প্রশ্নও সংস্থাকে করা হয়েছে। এদিকে, মতুয়াগড়ে আজ মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসআইআর বিতর্কের মধ্যে তার এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এদিন তিনি এসআইআর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন। তবে জানা গেছে, তিনি ঠাকুরবাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেননি। মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচির শেষ মুহূর্তের এই বদল প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।


