পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এলেন মমতা ব্যানার্জি। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরায় এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার পেছনে তাঁর আইনি লড়াই বড় ভূমিকা রেখেছে।
ডেবরার বালিচক ভজহরি ইনস্টিটিউশনের মাঠে আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, প্রায় ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে অন্তত অর্ধেক যদি চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত হয়, তবে সেটি তাঁর উদ্যোগের ফল। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গিয়েছিলেন এবং লড়াই করেছিলেন। তবে এই দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রায় ৬১ লক্ষ নাম বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। বিচারপতিরা একে একে সেই নামগুলির বৈধতা পরীক্ষা করছেন এবং তালিকা কমিশনের কাছে পাঠানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি তালিকা প্রকাশিত হলেও, কতজনের নাম চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়েছে বা কতজন বাদ পড়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম সামনে এসেছে, মুর্শিদাবাদের এক সাধারণ গৃহবধূ মোস্তারি বানু। জানা গেছে, তিনিই প্রথম এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকরা অকারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মোস্তারি বানু জানিয়েছেন, বিভিন্ন ছোটখাটো কারণে যেমন নামের বানান, পারিবারিক তথ্য বা অন্য অসঙ্গতি মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ফলে অনেক শ্রমিককে কাজ ছেড়ে বারবার বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, যা তাঁদের জন্য বড় সমস্যার সৃষ্টি করছে। এই কারণেই তিনি আইনি লড়াইয়ে নামেন।
এখানেই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই আন্দোলনের সূচনা যিনি করেছিলেন, তাঁর ভূমিকা আড়াল করে নিজের কৃতিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও মমতা ব্যানার্জি আদালতে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তিনি প্রথম আবেদনকারী নন এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা নিয়ে আইনি লড়াই এবং তার কৃতিত্ব ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


