যুদ্ধের আগুনে আবারও পুড়ল সাধারণ মানুষের জীবন। ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়ে গেল একটি মেয়েদের স্কুল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা দাবি করেছে, হামলার সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল। আচমকা বিস্ফোরণে মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ভবনের একাংশ। মৃত্যু হয়েছে বহু ছাত্রীর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, প্রথমে বিকট শব্দ, তারপর ধুলো আর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। কেউ বুঝে ওঠার আগেই চারদিকে চিৎকার, কান্না আর দৌড়ঝাঁপ। অনেকে নিজের হাতে ইট-সিমেন্ট সরিয়ে ভেতরে আটকে পড়া পড়ুয়াদের বের করার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা একাধিক কিশোরীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, মিনাব শহরের কাছেই রয়েছে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র একটি ঘাঁটি। মনে করা হচ্ছে, সেই লক্ষ্যেই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে তার পাশের স্কুলটিও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের দিকেই আঙুল তুলেছে তেহরান।
ইতিমধ্যেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের সামনে জড়ো হয়েছেন পরিবার-পরিজন। কারও মেয়ে আর ফিরবে না, কেউ আবার নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে হাসপাতাল থেকে মর্গ—দৌড়চ্ছেন একের পর এক জায়গায়। “সকালেও ও হাসতে হাসতে স্কুলে গিয়েছিল,” কাঁদতে কাঁদতে বললেন এক অভিভাবক।
এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে। যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু যদি সামরিক ঘাঁটি হয়, তবে স্কুলের মতো জায়গা কীভাবে হামলার মুখে পড়ল—তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।
এদিকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পালটা হামলা অব্যাহত। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—এই যুদ্ধ আর কত প্রাণ কেড়ে নেবে?


